Monday, August 31, 2026

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং হামলাকারী মিলিয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ট্যাংক জেলার একটি নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আফগান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে অস্থির।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাসদস্য, দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বন বিভাগের কর্মকর্তা। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে আরও ১২ জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে একদল সশস্ত্র হামলাকারী নিরাপত্তা চৌকিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চৌকির সীমানাপ্রাচীরে আঘাত করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।
পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, এ অভিযানে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী অংশ নিয়েছিল।
হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে বান্নু জেলাতেও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্যও পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৬২০ জন থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) জানিয়েছে, একই সময়ে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Exit mobile version