Monday, August 31, 2026

সৌদি আরবের জেদ্দায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সৌদি সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট ও তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এক দিনের সফরে শুক্রবার সৌদি আরব যাবেন। সফরকালে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সরকারি সফরে জেদ্দায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী।
জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাহবাজ শরিফকে স্বাগত জানান মক্কার উপ-আমির প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল। এ সময় সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান আল-ফাদলি, পাকিস্তানে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত নওয়াফ আল-মালকি, সৌদি আরবে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আহমদ ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর তাৎপর্য শুধু বর্তমান সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতিফলন।
তিনি জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে একমত হতে পারে। সম্ভাব্য এই চুক্তি তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পথ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কও সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে জেদ্দার এই ত্রিপক্ষীয় সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছিল। এবার তুরস্ককে যুক্ত করে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Exit mobile version