টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা এবং সিলেট বিভাগের দুই জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত কেন্দ্রটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় আগামী তিন দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এ ছাড়া ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বেড়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গোমতী নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে আগামী তিন দিনে পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানিও আবার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

