রাজধানীসহ সারা দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে আর কোনো ধরনের সীমা বা রেশনিং থাকছে না। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সরকার এ সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি সামনে ঈদুল ফিতর এবং বোরো মৌসুম চলমান থাকায় কৃষিকাজ ও পরিবহন খাত সচল রাখতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জ্বালানি তেল বিক্রিতে আরোপিত সব সীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও সরকার আপাতত দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করবে। অর্থনীতি যতদিন চাপ সহ্য করতে পারবে, ততদিন দাম না বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হবে।
এর আগে শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রার চাপ বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমা রাখা হবে না। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করায় পরিবহন খাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গত ৬ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশন থেকে তেল বিক্রিতে সাময়িক সীমা নির্ধারণ করে। তখন মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার এখন সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে তেল বিক্রি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

