বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে চাল উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বড় কারণ হিসেবে দায়ী করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শনিবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

এ সময় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও চালের দাম বাড়ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কিন্তু দেশের বাজারে সেই প্রভাব নেই। একই চিত্র চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম না কমা বাজারে প্রতিযোগিতা ও নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে।
সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে। ফলে চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দামের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির যোগসূত্র আরও দৃঢ় হচ্ছে।

সিপিডির মতে, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল দেশের ভোক্তারা পাবেন না। এজন্য চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

Leave A Reply

Exit mobile version