Monday, August 31, 2026

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। একই সঙ্গে গ্যাসের স্বল্পচাপে সাভার, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক, ডাইং ও নিটিং শিল্প।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। অনেক স্টেশনে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি সিলিন্ডার পূর্ণ করতে আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সময় লাগছে। এতে যেমন পরিবহন চালকদের আয় কমে গেছে, তেমনি ফিলিং স্টেশন পরিচালনায়ও বাড়ছে আর্থিক চাপ।
গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক, ডাইং ও নিটিং কারখানাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে জেনারেটর ও বয়লার স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহে অতিরিক্ত ব্যয়ে এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে। এমনকি কিছু রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শিল্পনগরী নরসিংদীতে অনেক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৫০০ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে মাত্র ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংকটের সুযোগে কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে নিয়মবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারে গ্যাস ভরে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন জানিয়েছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর আশা, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিল্প মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ ভোক্তারা।

Exit mobile version