বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনা অঞ্চলে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক বছরে এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১০০ জন; যার অর্ধেকই খুলনা জেলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব, মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার থেকে রক্ত আদান-প্রদান এবং নিয়মিত টেস্ট না করানোর কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এইচআইভি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি বার এআরটি সেন্টার রয়েছে। খুলনা বিভাগসহ আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এ সেন্টারে আসেন।

সেন্টারটিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৯ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ১০০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। ১০০ জন এইচআইভি আক্রান্তের ৪৯ জনই খুলনা জেলার।

এছাড়া বাগেরহাট জেলার ১৬ জন, সাতক্ষীরা জেলার ১২ জন, নড়াইল জেলার ১১ জন, যশোর জেলার ৭ জন, গোপালগঞ্জ জেলার ৩ জন ও পিরোজপুর জেলার ২ জনের শরীরে এইচআইভি এইডসের জীবাণু পাওয়া গেছে।

সূত্রটি জানায়, শনাক্তদের মধ্যে শরীরে রক্ত নিতে গিয়ে ২০ জন, ১৫ জন যৌনকর্মী, ৩৪ জন সমকামী, ২ জন গৃহিণী এবং ২০ থেকে ২৫ বয়সী ৫০ থেকে ৬০ জন এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দিবেশ ওঝা বলেন, বিভাগজুড়ে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, শুধু অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক নয়, মানহীন ও অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত আদান-প্রদানের এইচআইভি পজিটিভ ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া সচেতনতার অভাব, সামাজিক ভীতি এবং নিয়মিত টেস্ট না করানোই এইচআইভি বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। তবে প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালে কিট সংকটে সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এইডসের জীবাণু বলে দাবি করেন।

Leave A Reply

Exit mobile version