বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি উঠেছে। সাম্প্রতিক ৪৮ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগের পর ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার লন্ডন থেকে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত বা বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যেসব তথ্য ও ভিডিও বাইরে আসছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন স্থানে কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো ভিডিওগুলোতে হতাহতের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের তথ্য ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা থেকেও এসেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে—শুধু একটি শহর নয়, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জায়গায়ই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত থাকায় অনেক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবু বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, একাধিক এলাকায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিভিন্ন অংশ ও কারাজের ফারদিস এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত বলে জানানো হয়েছে।
সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বিকল্প স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু ভিডিও ও তথ্য বাইরে পৌঁছাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহ সীমিত থাকায় ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য চিত্র পেতে সময় লাগতে পারে।

Leave A Reply

Exit mobile version