মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইয়েমেনে। সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সেনাঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হাউথি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনা নিহত এবং আরও ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
২০২২ সালের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ওপর এটিকে হাউথিদের সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের কয়েকটি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হাউথিরাও হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হাউথির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, আল-রুয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াহ এলাকায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় শতাধিক যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনে নিযুক্ত মার্কিন মিশন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হাউথিদের এ হামলা ‘ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের চালানো সন্ত্রাসবাদের আরও একটি দৃষ্টান্ত’।
২০১৪ সালে হাউথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবে চলে যেতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সাল থেকে হাউথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হাউথিরা। এরপর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা। সাম্প্রতিক সময়েও হাউথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

