মাদারীপুরের রাজৈরে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠিয়ে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা এক ভুক্তভোগী কৃষক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার দুপুরে রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক মো. ফকরুল মিয়া স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল মনছুর শিকদারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন।
ফকরুল মিয়া জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একই এলাকার মনছুর শিকদারের সাথে যোগাযোগ করেন। তখন মনছুর তাকে ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ‘বডি কনট্যাক্টে’ ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ইতালি নেওয়ার পরিবর্তে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে একটি ক্যাম্পে দীর্ঘ ১৮ মাস আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, লিবিয়ার ওই ক্যাম্পে তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ইতালি পাঠানোর নাম করে দফায় দফায় তার কাছ থেকে মোট ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই দালাল চক্র। শেষ পর্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন শেষে নিঃস্ব অবস্থায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফকরুল মিয়া বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে এখন নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। দালালের খপ্পরে পড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে এই প্রতারক মনছুর শিকদারের বিচার চাই এবং আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই।
বর্তমানে পাওনা টাকা উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

