Tuesday, July 21, 2026

ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের আট জেলায় স্বল্পমেয়াদি বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী দুই দিন দেশের রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, আর কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে উভয় নদীর পানি বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদী দুটির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বেড়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। যদিও ঘাঘট, আত্রাই, করতোয়া ও ছোট যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমানে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Exit mobile version