নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার ১১টি ইটভাটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খোলা আকাশে রোদে শুকাতে দেওয়া এবং পোড়ানোর জন্য সারিবদ্ধ করে রাখা প্রায় ৬০ লাখ কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে গলে বিনষ্ট হয়েছে। এতে ইটভাটা মালিকরা প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার ভোরে আকস্মিক এই বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির প্রভাবে ইটের পাশাপাশি আমের মুকুল ও উঠতি আলুরও কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ভিজে কয়েক লাখ কাঁচা ইট কাদার সঙ্গে মিশে গেছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের দোমাইল এলাকায় ইটভাটা মালিক মো. আহসান হাবিবের ভাটায় রাখা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা ইটগুলো রক্ষা করতে পারেননি। বর্তমানে বাজারে পোড়া ইটের দাম প্রতি হাজারে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা হলেও এই ক্ষতির কারণে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মাহমুদপুর ইউনিয়ন এলাকার ইটভাটা মালিক সালাহ উদ্দিন মাছুম জানান, হঠাৎ এই দুর্যোগে প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ কাঁচা ইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইট কয়েকদিনের মধ্যেই ভাটায় পোড়ানোর কথা ছিল।
নবাবগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি সালাহ উদ্দিন মাছুম বলেন, আবহাওয়া এমন প্রতিকূল হবে তা আমরা কেউ আগে থেকে বুঝতে পারিনি। ভাটায় পর্যাপ্ত পলিথিন থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টি নামায় সব ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পলিথিন দিয়ে ঢাকা কিছু ইটও নিচ দিয়ে আসা বৃষ্টির পানিতে গলে গেছে। উপজেলার ১১টি জিগজাক ভাটায় আনুমানিক ১ কোটি টাকার সমপরিমাণ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে।
ইটভাটা মালিকদের সূত্রমতে, বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইটের যোগান ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে ইটের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইটভাটা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও মালিকপক্ষ উভয়ই এখন দিশেহারা।

