ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এদিন বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে আজ সংসদ ও এর দক্ষিণ প্লাজায় মোট তিনটি পৃথক শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় দুটি শপথের প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ দলটি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অনেকগুলো হয়-এর পরে’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ হলে হতে পারে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়-এতগুলো হয়–এর পরে তারপরে হলে হতে পারে।’
এদিকে, সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, ‘‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রথমবার শপথ নেবেন সংসদ সদস্য হিসেবে, পরেরবার শপথ নেবেন এই যে আমাদের সংস্কার হলো সেজন্য। বিকালে হবে মন্ত্রিপরিষদের শপথ।’’
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছিলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫-এ এটা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সেটা হচ্ছে-এই যে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা দুটো শপথ গ্রহণ করবেন।”
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছিল। ইতোমধ্যে দুটি স্তর পার হয়েছে। প্রথমটি হলো, আইনি ভিত্তি প্রদান, বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে ছিল গণভোট। এতে ‘হ্যাঁ’জয়ী হওয়ায় তৃতীয় স্তর অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া সামনে রয়েছে।
শপথের ধাপগুলো হলো-১) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ: সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিরা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শপথ নেবেন। ২) সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ: সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পরপরই তারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নেবেন। ৩) মন্ত্রিপরিষদের শপথ: বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সরকারি দল হিসেবে বিএনপি’র নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপরে প্রধান বিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে। শপথ গ্রহণের পর বিএনপি ও জামায়াত তাদের সংসদীয় দলের সভায় বসে নতুন সংসদ নেতা ও প্রধান বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন করবেন।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করে থাকেন। শপথ নেওয়ার নির্ধারিত ফরম আছে। এগুলো আসনওয়ারি প্রস্তুত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের তফসিলে আছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার ফরম।
নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্য মঙ্গলবার শপথ নেবেন
দুবার শপথ পাঠ করানোর প্রস্তুতি সংসদ সচিবালয়ের
Keep Reading
Add A Comment

