প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে অভিযোগে দিনাজপুরে ডিভাইসসহ ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। শুক্রবার বিকালে জেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটক পরীক্ষার্থীদের পরিচয় জানা যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন গার্লস হাই স্কুলে ২ জন, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একজন, কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজে (বিএম) ২ জন, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে একজন, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে একজন, দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন, দিনাজপুর মিউনিসিপাল হাইস্কুলে একজন, দিনাজপুর নূরজাহান কামিল মাদ্রাসায় ৫ জন, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একজন এবং কেরি মেমোরিয়াল হাই স্কুলে একজন পরীক্ষার্থী ডিভাইসসহ আটক হয়েছেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় যারা জড়িত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দিনাজপুরের ৪৫টি কেন্দ্রে ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ ছিল যে পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার হবে। গত কয়েকদিন ধরেই গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছিল। আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি, কিন্তু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই যদি আটক করা হয় তাহলে অপরাধ সঠিকভাবে চিহ্নিত হয় না। এজন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। ডিভাইস চক্রটি ঢাকা থেকে এসে দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এবং নির্জন স্থান থেকে এই কার্যক্রম চালায়। ডিভাইসে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর বলে দেওয়ার কাজ করছিল। আমরা এই ঘটনার মূল হোতাকেও চিহ্নিত করেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো টিমটিকে আটক করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি প্রতিটি ডিভাইস ব্যবহারকারীর কাছ থেকে চুক্তি হয়েছে ১৫ লাখ টাকার। এই ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা তাদেরই ডিভাইস দেওয়া হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে চেক, পরীক্ষার সনদপত্র, প্রবেশপত্র এমন কিছু কাগজপত্র জমা নিয়েছে। এই চক্রটির ব্যপ্তিটি অনেক বড়। তবে কতগুলো ডিভাইস দিনাজপুরে ব্যবহার হয়েছে সেটি নির্ণয় করার চেষ্টা চলছে।’

