বর্তমানে বিশ্বে ছোট-বড় মিলিয়ে অসংখ্য যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এতে মনে হতে পারে, যুদ্ধ বুঝি মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ইতিহাস বলছে, সব সময় এমন ছিল না।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ইয়ান মরিসের মতে, মানব ইতিহাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ সময় কোনো রাষ্ট্র বা সরকারই ছিল না। ফলে তখন রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের যুদ্ধও ছিল না। তবে মানুষে মানুষে সংঘাত ও সহিংসতা ছিল।
কৃষির প্রচলনের আগে মানুষ ছোট ছোট দলে যাযাবর জীবন কাটাত। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণে সে সময় বড় সংঘাতের চিহ্ন খুব কম পাওয়া যায়। তবে কেনিয়ার নাটারুকে প্রায় ১০ হাজার বছর আগের ২৭টি কঙ্কাল এবং সুদানের জেবেল সাহাবায় প্রায় ১৩ হাজার বছর আগের কঙ্কালে সহিংস মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ মারামারি ছিল, তবে সেগুলোকে আধুনিক অর্থে যুদ্ধ বলা কঠিন।
বড় সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পর যুদ্ধ বাড়তে থাকে। তবুও ইতিহাসে দীর্ঘ শান্তির উদাহরণ রয়েছে। মিসর ও হিট্টাইট সাম্রাজ্য খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০-১২০০ সালের মধ্যে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ এড়িয়ে চলেছিল। রোম ও পারস্যও ৩৮৭-৫০১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বড় সংঘাত থেকে বিরত ছিল। চীনের সং রাজবংশও অর্থ ও উপহার দিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখত।
অতএব, ইতিহাস শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়। মানুষ যেমন সংঘাতে জড়িয়েছে, তেমনি আলোচনা, কূটনীতি ও সমঝোতার মাধ্যমেও দীর্ঘ সময় শান্তিতে থেকেছে।

