ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার বিকেল থেকে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করলে রবিবার গভীর রাতে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায়। দুর্বৃত্তরা রেললাইনের প্রায় ২০ ফুট অংশ খুলে ফেলে, ফলে ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।
রেল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও রেলস্টেশনের কাছে সালটিয়া মাঠখোলা এলাকায় তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সামনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সব ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
গফরগাঁও স্টেশনের স্টেশনমাস্টার হানিফ আলী বলেন, মনোনয়ন সংক্রান্ত আন্দোলন সাধারণত সকাল নয়টার পর শুরু হয়। কিন্তু ভোর রাতে কে বা কারা লাইন খুলে দিয়েছে, তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন রওনা হয়েছে। লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধার ও মেরামত শেষে আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে এ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ আসন থেকে আরও পাঁচ নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মুশফিকুর রহমান, আল ফাত্তাহ ও মোফাখখারুল ইসলাম।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই এ বি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের সমর্থকরা রাস্তায় এবং রেলপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক ও রেল অবরোধ করা হয়। শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এবং রবিবার দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছেন।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বলেন, রেললাইনের একটি অংশ সরানো হয়েছে, যার ফলে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। দুই দিন ধরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। ঘটনার পিছনে কে বা কারা আছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

