বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশনে ঝুঁকি নিতে ভয় পায়, যে কারণে ৩০ থেকে ৪০ বছরে যে পরিমাণ বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। আর অনুসন্ধান কার্যক্রম যথাযথ না হওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

সোমবার রাজধানীর আইইবি ভবনের বিইআরসির সভা কক্ষে ‘ডিএসটি’নিয়ে এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের জন্য কর্মশালাটি আয়োজন করে বিইআরসি।
জালাল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও ঝুঁকি গ্রহণের অভাব রয়েছে। তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম একটি গেইম। পেতেও পারেন আবার জিরো হতে পারে। সে কারণে সরকার ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। বিশেষ করে এক্সটেনসিভ সিসমিক সার্ভে না করায় বড় ঘাটতি। যদি আমরা ব্যাপকভাবে সিসমিক সার্ভে করতে পারতাম, তাহলে তার ভিত্তিতে পরিকল্পিত এক্সপ্লোরেশন করা যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো-আমরা সেই জায়গাটায় দুর্বল থেকেছি। এ কারণে এখন অনেক বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।’

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘একটি কূপে গ্যাস পাওয়া যাবে কি না এবং তা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে কি না, এটি নির্ধারণ করতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। কূপ খননের আগে প্রথমেই সিসমিক সার্ভে করা হয়। এই সার্ভের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ভূগাঠনিক কাঠামো শনাক্ত করে কূপের সঠিক লোকেশন নির্ধারণ করা হয়। এরপর প্রস্তুত করা হয় একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রিলিং প্রোগ্রাম, যেখানে কূপের গভীরতা, সম্ভাব্য গ্যাস বা তেলের উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকগুলো উল্লেখ থাকে।’
মিজানুর রহমান আরও বলেন, গ্যাস পাওয়ার পর তার পরিমাণ ও উৎপাদনযোগ্যতা যাচাই করতে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) বা ধাপে ধাপে টেস্টিং করা হয়। একই পদ্ধতিতে তেল ও গ্যাস—উভয়ের ক্ষেত্রেই পরীক্ষা চালানো হয়। অতীতে বিভিন্ন কূপে তেল ও গ্যাসের উপস্থিতি মিললেও সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তবে এসব তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।

বিইআরসি সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অবঃ), এফইআরবির চেয়ারম্যান মো. শামীম জাহাঙ্গীর ও নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, এফইআরবির সদস্যবৃন্দ এবং বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Exit mobile version