বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরাঞ্চল দিয়ে ঢাকার বাইরে সফর শুরু করছেন। লন্ডনে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর এটাই ঢাকার বাইরে তার প্রথম সফর। আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরের নয়টি জেলায় আসছেন। এই সফর ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উৎসব ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

বুধবার বিকালে বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানের জন্য রাত্রিযাপনের স্থান নির্ধারণ ও শহরের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ চলছে। ইতিমধ্যে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’
প্রথমদিন বগুড়ায় আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মতো তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী। পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসনেও দলের প্রার্থী। বগুড়ার গাবতলীতে তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ১৯ বছর পর পৈতৃক জেলা সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। সফরকে সফল করতে বাদশার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

ইতিমধ্যে সফরের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি আসছেন টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায়। সেদিন রাতে বগুড়ায় থেকে পরদিন রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট যাবেন। সেদিন রাতে ফিরবেন রংপুর। ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তারেক রহমান।

সফরে যাওয়া জেলাগুলোর প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, সফরটি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না।
মোশারফ হোসেন জানান, তারেক রহমান ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর ১টায় টাঙ্গাইল, বিকাল ৩টায় সিরাজগঞ্জ হয়ে রাত ৮টায় বগুড়ায় পৌঁছাবেন। রাতে শহরতলির ছিলিমপুর এলাকায় চার তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের সেন্ট্রাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনায় জেলা বিএনপি আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেবেন। এই অনুষ্ঠান থেকে তারেক রহমান শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা হয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের তিনমাথা, চারমাথা ও মাটিডালি মোড় হয়ে শিবগঞ্জের মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ারের (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। সেখানে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে দলের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম নেতাকে স্বাগত জানাবেন। পথিমধ্যে মোকামতলায় খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া
মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

মোশারফ হোসেন আরও জানান, ওই দিন বেলা ২টায় রংপুরের পীরগঞ্জে যাবেন। প্রথম জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। রাত ৯টায় দিনাজপুরে পৌঁছাবেন। রাত ১১টায় ঠাকুরগাঁও পৌঁছে সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও, বেলা দেড়টায় পঞ্চগড়, বিকাল ৪টায় নীলফামারী, সন্ধ্যা ৭টায় লালমনিরহাট সফর করবেন। রাত ১১টায় রংপুর ফিরে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় রংপুরে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১টায় বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়িতে বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এখানে কর্মসূচি শেষে রওনা দিয়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন।

এদিকে, তারেক রহমানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চার দিনের সফরের বিষয়টি ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, তারেক রহমান এই সফরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।

সফরকালে তারেক রহমান মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং মরহুমা তৈয়বা মজুমদারসহ শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পুরো সফরের সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক (সমন্বয়) ক্যাপ্টেন (অব.) গণিউল আজম।

Leave A Reply

Exit mobile version