নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আকস্মিক বন্যায় সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার রাসুয়া জেলায় বন্যার পর ৪০৩ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি ও ৬৩ জন নেপালি। বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয়, ৪৭ জন মার্কিন ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। সীমান্তের গিরং এলাকায় কাদা, পাথর ও পানির স্রোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় ১১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টারে আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া শত শত তীর্থযাত্রীও নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি ভারতীয় বলে জানিয়েছেন নেপালের পর্যটন কর্মকর্তারা। তীর্থযাত্রীদের ব্যবহৃত গিরং সীমান্ত চেকপোস্টটিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তামিলনাড়ুর একটি পর্যটন দলের ৪০ জনের বেশি সদস্যেরও এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

