Monday, August 31, 2026

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কম্পনকে ভূমিকম্প মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এটি ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ, বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল ধস থেকে সৃষ্ট কম্পন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উজান থেকে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির দেয়ালের মতো স্রোত নেমে আসে। এতে তিমুরে বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে লহেন্দে নদীতে বিশাল ধস নেমে বরফ, পাথর, কাদা ও পানি মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। সীমান্তে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক ট্রাক ও যানবাহনও স্রোতে ভেসে যায়।
দুর্যোগে নেপালে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না; তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি, যার মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়।
নেপালের রাসুওয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোটসহ কয়েকটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের আশ্বাস দিয়েছেন। সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Exit mobile version