অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে নিহত পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। নিহত পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
আফতাব উদ্দিন জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তৎপরতা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) নিজ বাসায় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে ডিবির বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
সর্বশেষ মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

