Monday, August 31, 2026

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল করে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বিবেচনা করে তাদের নৌপথে ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নদীর দূষণ রোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নদীতীরের পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নদীতীরের ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশও দেন তিনি।
সভা শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের কিছু অংশ যাত্রীবান্ধব হলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পুরো রুটটি এখনও কার্যকর হয়নি। সড়কপথের তুলনায় নদীপথে বেশি সময় লাগায় যাত্রী আগ্রহও কমে যায়।
তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত ওয়াটার বাস সেবা যাত্রীস্বল্পতা, নদীদূষণ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এ সেবা চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রী বাড়াতে নির্দিষ্ট বিরতিতে ওয়াটার বাস চালাতে হবে। তবে এতে পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। তাই সেবাটিকে টেকসই করতে যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় ও আয়—সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নদীদূষণ বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নদী পরিষ্কার, দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত না হলে মানুষ নদীপথে ভ্রমণে আগ্রহী হবে না। এ কারণে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, কোথাও প্রয়োজন হলে সড়ক সেতু উঁচু করার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। তবে আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে এবং অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুই থেকে তিন মাস পর আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

Exit mobile version