Monday, August 31, 2026

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র সিএনজি সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।
চালকদের অভিযোগ, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস মেলে না। ফলে দিনের বড় একটি সময় পাম্পে কাটাতে হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক আয়-রোজগারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকেরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই জানান, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে পারছেন না। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, অথচ সংসারের খরচ আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।
কয়েকজন চালক অভিযোগ করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অতীতে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরাও। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন চালক, স্টেশন মালিক ও ভুক্তভোগীরা।

Exit mobile version