ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের সমর্থন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাদের হামলার ঝুঁকিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উত্তর ইয়েমেনে হুথিদের উত্থান ঘটে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর দেশটির গৃহযুদ্ধ তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি। ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামরিক প্রশিক্ষণ হুথিদের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় হুথিরা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত হয়। এ পথে অস্থিরতা বাড়লে এশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
সৌদি আরবের শক্তিশালী বিমানবাহিনী থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা দেশটির নিরাপত্তার পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, হুথিদের সামরিক উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শুধু সামরিক অভিযান নয়, ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধান, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
Keep Reading
Add A Comment

