কক্সবাজারেরচকরিয়া-সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনভূমি রক্ষা এবং পুনরুদ্ধারে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত (ডি-রিজার্ভ) করার প্রজ্ঞাপন এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অসাংবিধানিক, বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আশরাফ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
রুলে বলা হয়েছে, চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত করার বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। তাই এসব কার্যক্রমকে কেন অসাংবিধানিক, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ম্যানগ্রোভ বন চকরিয়া-সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ইজারা, অবৈধ দখল এবং ডি-রিজার্ভেশনের কারণে প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বনভূমি পুনরুদ্ধারে একাধিক সরকারি নির্দেশনা জারি হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি, যা বন আইন, ১৯২৭ এবং সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় বনভূমি অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা চেয়ে বেলা জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ভূমি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম বিভাগের বন সংরক্ষক, কক্সবাজার উত্তর ও উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।
কক্সবাজারের বনভূমি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে হাইকোর্টের রুল
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আদেশ দেন

