বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয়েছে ফুটবলের উৎসবের আমেজ। গত ৫ ডিসেম্বর কেনেডি ওভারে অনুষ্ঠিত ড্র অনুষ্ঠান ভক্তদের অপেক্ষাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তবে প্রতীক্ষিত এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে টিকিটের দাম, যা সাধারণ সমর্থকের নাগালের অনেক বাইরে চলে গেছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে জাতীয় সংস্থাগুলোর জন্য কিছু টিকিট বরাদ্দ থাকে। এ বছরও সে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে এবং ৮ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ পেয়েছে জাতীয় সংস্থাগুলো।

এরই ধারাবাহিকতায় জার্মান ফুটবল ফেডারেশন টিকিটের মূল্য প্রকাশ করলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়। দেখা যায়, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সর্বনিম্ন ১৮০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২১ হাজার ৯৫৫ টাকা থেকে ৮৫ হাজার ৩৮৪ টাকার সমান, যা অনেক সমর্থকের জন্যই নাগালের বাইরে।

ফাইনাল ম্যাচের দাম তো আরও চমকে দেওয়ার মতো। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে এই শিরোপা লড়াই, আর সেটি মাঠে বসে দেখতে হলে ভক্তদের গুনতে হবে বিপুল অর্থ। সবচেয়ে কম দামের ফাইনাল টিকিটের মূল্য ৪ হাজার ১৮৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৬৮০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬৪ টাকা। এত উচ্চ মূল্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়ে পড়েছে সমর্থকরা।

এ অবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই)। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফা ভক্তদের প্রতি বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিশ্বকাপের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং টুর্নামেন্টকে প্রাণবন্ত করতে যে সমর্থকেরা মুখ্য ভূমিকা রাখে, তাদের প্রতি কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না ফিফা। তবে এমন অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা কর্তৃপক্ষ।

ফুটবলপ্রেমীদের আশা, শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি সাধারণ ভক্তদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে টিকিট নীতি পুনর্বিবেচনা করবে। নইলে ২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে বসে দেখার স্বপ্ন অনেকের ক্ষেত্রেই অধরাই থেকে যাবে।

Leave A Reply

Exit mobile version