ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এ ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সেন্টকমের দাবি, হামলায় মূলত ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ-সামরিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সুত্র মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পরপরই শহরজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর ও সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের আশপাশ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে ওই স্থাপনাটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগনের জন্য অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর এ বক্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে আরও জোরালো হামলার পরিকল্পনা করছেন।
এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়ানো হবে। এতে অঞ্চলজুড়ে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

