বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে বিমানে উঠলাম, বিমানে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী খবর আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি খবর করেছে যে, প্রতি বছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশু বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।
তিনি বলেন, যে বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা কর (ট্যাক্স) কমিয়ে এনেছি। এই বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিসের ওষুধ থেকে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের রোগীদের ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। হার্টের বাইপাস ও স্টেন্টিংয়ে আগে যেখানে সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো, তা কমে এখন প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকায় নেমে আসবে। একইভাবে চোখের লেন্সের ওপর থেকেও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা এবং সেজন্যই আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি যখন বিদেশ থেকে ১৭ বছর পরে এই দেশে ফিরে আসি, সেই সময় আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম-‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
আজকে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য, আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য, আমাদের কৃষক ভাইদের স্বাবলম্বী করার জন্য, এই দেশে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য, এই দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য, এই দেশের মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যে সকল পরিকল্পনা এগুলোই হচ্ছে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ।

