মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো আইনি ও প্রশাসনিকভাবে কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতীতে এ ধরনের পদক্ষেপের নজির না থাকলেও এবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিচারিক নয়। এর কারণ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতিই ভালো জানেন। সাংবাদিকদের প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে বলেও তিনি মনে করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
বিচারপতিদের অবসর বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে উত্থাপিত হলেও সেখানে আলোচনার উপযুক্ত ক্ষেত্র নয় বলে জানানো হয়েছে। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, কারণ এটি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

