ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান চরম অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় এই ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে।
মূলত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত তারা এই কৌশলগত জলপথটি উন্মুক্ত করবে না। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এটি বন্ধ হওয়ার হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ভয় দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪.০৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৭৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট নর্থ সি অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৬৩ ডলারে উঠে আসে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দাম একসময় শিখরে পৌঁছালেও পরবর্তীকালে তা কিছুটা কমে আসে। তবে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটায় বাজারের অস্থিরতা এখনো কাটেনি। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যার ফলে তেলের দামে এই নিয়মিত ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে দাম আরও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

