পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৬ জেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, মোটরসাইকেল চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটন শহর দিঘা থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ। প্রথম ধাপে মোট ১৫২টি আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোট ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ কর্মী ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে মোট ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলায় সর্বোচ্চ ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তা মোতায়েনের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হলো রাজ্যের ২৯৪টি আসনের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজ্যটির নতুন সরকার গঠিত হবে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই প্রধান শক্তি, বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর মধ্যে। কোনও দল বা জোট যদি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৮টি বা তার বেশি আসনে জয়লাভ করে, তাহলে তারাই সরকার গঠন করবে।
যদি বিজেপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে এটি হবে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সরকার। এমনটি হলে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে । অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় জয়ী হলে তাদের শাসন অব্যাহত থাকবে। বিজয়ী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা বা নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

