নতুন বছরের প্রথম দিনেই পর্দা উঠছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ)। পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামী ১ জানুয়ারি এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মেলার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব জানান, এবারের মেলা ডিজিটাল আধুনিকায়ন ও দর্শনার্থী সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টল বরাদ্দ থেকে শুরু করে টিকিটিং—সবই থাকছে অনলাইনে। দর্শনার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে দ্রুত মেলায় প্রবেশের সুবিধা পাবেন। যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির ২০০টিরও বেশি ডেডিকেটেড বাসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে ‘পাঠাও’ সেবা।
এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। যেখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ ও আহতদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’।
পরিবেশ রক্ষায় মেলায় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে । এর বিকল্প হিসেবে পাটজাত পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হবে। মেলা প্রাঙ্গণে ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদর্শিত হবে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় এটিএম বুথ, মা ও শিশু কেন্দ্র, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার এবং শিশুদের জন্য দুটি পার্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে সকাল ৮টা থেকে বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। যাতায়াত ভাড়া এলাকাভেদে ৪০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেলার টিকিটের মূল্য বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য ২৫ টাকা ধরা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই বিপ্লবে আহতরা যথাযথ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনে মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত ।

