ছুটির দিনে শীতের পরশ নিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর! তবে মাঠের ক্রিকেটের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রস্তুতির ঘাটতি ও নানা অনিশ্চয়তা!
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন উদ্বোধনী ম্যাচের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে পর্যন্ত পড়তে হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে! প্রেস কনফারেন্স কক্ষে বিজ্ঞাপন বোর্ড না থাকায় শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বাসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয় তাকে। এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অধিনায়কদের নিয়ে প্রচলিত ফটোসেশনও আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এখানেই শেষ নয়, শুরুর আগ পর্যন্ত জানা যায়নি বিপিএলের টাইটেল স্পন্সরের নাম। মাঠে দেখা মেলেনি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বোর্ডেরও। জমকালো আয়োজনের কথা থাকলেও হয়নি ট্রফি উন্মোচন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
দুই ম্যাচের ফাঁকে ছোট পরিসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলেও নতুন ট্রফি দর্শকদের সামনে আসেনি। কবে নাগাদ ট্রফি উন্মোচিত হবে, সে বিষয়েও তখন পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বিপিএল শুরুর আগেই একটি ট্রফি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে সেটি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পছন্দ হয়নি। ফলে নতুন করে ট্রফি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিসিবির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দেখুন, আগে যে ট্রফিটা ছিল সেটা গতানুগতিক। ওইটা পরিবর্তন করে নতুন একটা আনাড হয়েছে কিন্তু ওইটা আপ টু দ্য মার্ক না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এজন্য পরিবর্তন করে আবার ট্রফি আনা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ট্রফিটা আমাদের হাতে আসবে। আসলে কম সময় আবার আমরা পরিবর্তনও করতে চেয়েছি। আগের ট্রফি যদি থাকতো তাহলে এই প্রশ্ন আসতোই না। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। এখন পর্যন্ত আপনাদের দেখা সেরা ট্রফি হবে, ভালো ট্রফি হবে এবার।’
নতুন ট্রফি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানকে। ডায়মন্ড খচিত এই ট্রফি বানাতে খরচ হচ্ছে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, ট্রফি অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং দেরি হলেও সেটি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তার বিশ্বাস, ট্রফিটি দেখলে সবারই ভালো লাগবে।
বিসিবি এবারের বিপিএলের জন্য দুটি ট্রফি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে তুলে দেওয়া হবে, অন্যটি সংরক্ষিত থাকবে বিসিবিতে। এ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা দুইটা ট্রফি আনছি, একটা দিয়ে দিব আরেকটা রাখব বিসিবিতে। একটা আনলে দাম যা হয় দুইটা আনলে অনেক কম পড়ে, একই জিনিস। বিসিবিতে একটা থাকল এবং যারা চ্যাম্পিয়ন হয় তারা একটা নিয়ে গেল।’
নানা বিতর্ক ও নেতিবাচক খবরের মধ্যেই শুক্রবার শুরু হয়েছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক একদিন আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দায়িত্ব নেয় বিসিবি নিজেই। নবাগত দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসও উঠে আসে সমালোচনায়। অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে অনুশীলন ছেড়ে যান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও তালহা জুবায়ের। পরে অবশ্য তারা আবার দলে ফিরে আসেন।
শুরুর আগে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও ‘নিরাপত্তার’ কারণ দেখিয়ে সেটি বাতিল করা হয়। পরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। বিকেল ৩টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হয়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মুখোমুখি হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস।
উদ্বোধনী ম্যাচের আগে দুই দলের ক্রিকেটাররা সারিবদ্ধ হয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর কোরআন তিলাওয়াত এবং শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতার পর বেলুন উড়িয়ে বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচ শেষে আয়োজন করা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি পরে শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন। ফুয়াদ মুক্তাদিরের কোরিওগ্রাফিতে থাকবে গান ও নাচের আয়োজন, যা চলবে প্রায় ৪৫ মিনিট।
সব বিতর্কের মাঝেও উদ্বোধনী দিনেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিসিবির তথ্যমতে, প্রথম দিনের ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন ১৭ হাজার ৮৮৪ জন দর্শক!

