রাজনৈতিক উত্তেজনায় ঘেরা এক সেমিফাইনালে ইউক্রেনের এলিনা সিতোলিনাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে টানা চতুর্থবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শীর্ষ বাছাই বেলারুশিয়ান তারকা জয় পান ৬-২, ৬-৩ ব্যবধানে।
এই জয়ে মেলবোর্ন পার্কে চার বছরের মধ্যে তৃতীয় শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন বিশ্ব এক নম্বর সাবালেঙ্কা। শনিবারের ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ হবেন এলেনা রিবাকিনা অথবা জেসিকা পেগুলা।
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা বলেন, “এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। দারুণ একটা অর্জন, তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। জয় পেয়ে খুব খুশি। সে (সিতোলিনা) ভীষণ কঠিন প্রতিপক্ষ এবং পুরো সপ্তাহজুড়েই দুর্দান্ত টেনিস খেলেছে।”
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, যেখানে বেলারুশকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই থেকে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও ট্যুর ইভেন্টে রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। এ বাস্তবতায় সভিতোলিনা আগেও এই দুই দেশের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলাকে মানসিকভাবে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নিজের দেশের জন্য ‘আলো’ এনে দেওয়ার আশার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সাবালেঙ্কার শক্তিধর আক্রমণের সামনে সেই আশা টিকেনি।
২৭ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা পেশাদার যুগে তৃতীয় নারী হিসেবে টানা চারবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়লেন। এর আগে ইভন গুলাগং কাওলি (১৯৭১–৭৬) ও মার্টিনা হিঙ্গিস (১৯৯৭–২০০২) টানা ছয়টি করে ফাইনাল খেলেছিলেন।
পরাজয়ের পর সভিতোলিনা বলেন, “আজ ফাইনালে উঠতে না পারায় খুব কষ্ট লাগছে। আগুনে ফর্মে থাকা বিশ্ব এক নম্বরের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই কঠিন।”
যদিও ৩১ বছর বয়সী সিতোলিনা সরাসরি সেটে হেরেছেন, তবু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। প্রথম পয়েন্টেই সার্ভ রিটার্নে লাইন বরাবর ফোরহ্যান্ড উইনার মেরে দৃঢ়তার জানান দেন তিনি। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও সাবালেঙ্কা দ্রুত ছন্দে ফেরেন।
ম্যাচের শুরুতেই ২-১ গেমে উত্তেজনা ছড়ায়। র্যালির মাঝপথে সাবালেঙ্কার দেরিতে করা শব্দকে ‘হিন্ড্রান্স’ হিসেবে ধরে তাকে পয়েন্ট পেনাল্টি দেন আম্পায়ার। ক্ষুব্ধ সাবালেঙ্কা ভিডিও রিভিউ চান, তবে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সেই হতাশাকেই শক্তিতে রূপ দেন তিনি—সভিতোলিনার সার্ভ ভেঙে এগিয়ে যান ৪-১ ব্যবধানে।
৪১ মিনিটের প্রচণ্ড শক্তিনির্ভর লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় সেটের শুরুতে সাবালেঙ্কার খেলায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। একগুচ্ছ ভুলে নিজের প্রথম সার্ভিস গেম হারান তিনি, দর্শকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা জাগে। কিন্তু দ্রুতই নিজেকে সামলে নিয়ে টানা দু’বার ব্রেক করেন সিতোলিনাকে।
৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও সভিতোলিনা ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন এবং ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। তবে সাবালেঙ্কা আর সুযোগ দেননি। লাইন বরাবর এক দুর্দান্ত ফোরহ্যান্ড উইনারে ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে বিশাল সার্ভে দুটি ম্যাচ পয়েন্ট আদায় করেন। শেষ পর্যন্ত ক্রস-কোর্ট ফোরহ্যান্ড উইনারে ম্যাচ শেষ করে নিশ্চিত করেন ফাইনালের টিকিট।
এখন সব চোখ শনিবারের ফাইনালে—যেখানে সাবালেঙ্কা মেলবোর্ন পার্কে নিজের তৃতীয় শিরোপা এবং ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সুযোগ পাবেন।

