প্রতিদিনই বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। কিন্তু দাম ক্রেতার নাগালে আসছে না। বাজারে নতুন বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শালগম বিক্রি হচ্ছে গত বছরের এই সময়ের চেয়ে বেশি দামে।
শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতাদের দাবি, গত অক্টোবরের বৃষ্টিতে সারাদেশে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার সবজির জমিও নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়েও সবজির দাম চড়া।
যদিও এখন খুচরা বাজারগুলোতে সব ধরনের শীতের সবজিতে ভরপুর। শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের সঙ্গে টমেটো, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পালং শাক, লাউ, মুলা সবই রয়েছে। তবে এসব সবজির দামে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ক্রেতারা।
মালিবাগ বাজারে কথা হয় সবজি কিনতে আসা শিহাব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সবজি এসেছে প্রায় এক মাস হলো। কিন্তু দাম এখনো অনেক চড়া। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে সবজির দাম নাগালের মধ্যে চলে আসে। কিন্তু এবার দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
বাজারে নতুন আসা ভালো মানের এক কেজি বেগুন কিনতে ক্রেতাকে অন্তত ১০০-১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এ দামে সাধারণত বেগুন বিক্রি হয় গরমকালে। যখন কি না দেশে সবজির উৎপাদন থাকে কম। শীতের মধ্যে বেগুনের দাম নেমে আসে ৪০-৬০ টাকায়।
অন্যদিকে, প্রতিটি মাঝারি আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম ৪৫-৫৫ টাকা। নতুন আসা এক কেজি শিমের দাম এখন ১০০ টাকা বা তারও বেশি। কোনো কোনো বাজারে সবুজ শিম ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছর একই সময়ে শীতের এ শিম ৫০ টাকা ও কপির দাম ২০-৩০ টাকার মধ্যে থাকতো।
শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমছে না দাম
নতুন আলু অবশ্য সবসময়ই বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতি কেজি নতুন আলু বাজার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়।
দাম অনেকটাই কমে যাবে।
তবে সবজির দাম চড়া হলেও খানিকটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। কোথাও কোথাও দেশি পেঁয়াজ এখনো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কোনো কোনো স্থানে আবার কমেও মিলছে। ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরেও কিছু কিছু দোকানিকে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, বাজারে ডিম ও মুরগির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকার মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়।

