মঙ্গলবার বাণিজ্য নগরীতে মুম্বই সিটিকে হারিয়ে প্রথম আইএসএল জয়ের লক্ষ্যে আরও এক কদম এগল ইস্ট বেঙ্গল। অস্কার ব্রুজোঁর দল এখনও ৩টি ম্যাচ খেলবে। প্রতিটি জিতলে খেতাব নিশ্চিত। এই লাল-হলুদ ব্রিগেডকে নিয়ে আমি যথেষ্ট আশাবাদী। বিশেষত মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল মিগুয়েল-শৌভিকরা, তাতে সমর্থকরা স্বপ্ন দেখতেই পারেন। দীর্ঘ সময় বাদে ভারতসেরার দৌড়ে কলকাতার দুই প্রধান। ইস্ট বেঙ্গলের পাশাপাশি মোহন বাগানেরও আইএসএল জয়ের সুযোগ রয়েছে। বাংলার ফুটবলের জন্য এর থেকে ভালো বিজ্ঞাপন আর কী-ই বা হতে পারে। গত কয়েক বছর আইএসএলে একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তাই একজন প্রাক্তনী হিসেবে আমি চাই, এবার কাপ জিতুক ইস্ট বেঙ্গল। তবে তার জন্য বাকি ৩টি ম্যাচেও এই ছন্দ ধরে রাখতে হবে।
ওড়িশার বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে জোড়া গোলে দলকে জিতিয়েছিলেন ইউসেফ এজেজ্জারি। অথচ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শুরুতে ওকে প্রথম একাদশে না দেখে বেশ অবাক হয়েছিলাম। মুম্বই এরিনায় প্রথম ৪৫ মিনিট মোটেই ভালো খেলতে পারেনি ইস্ট বেঙ্গল। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রথমার্ধেই ম্যাচ পকেটে পুরতে পারত মুম্বই। তবে ফুটবলারদের গা-ছাড়া মনোভাবেই খেসারত দিতে হল। ভুল শুধরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মিগুয়েল, এজেজ্জারি ও শৌভিককে মাঠে নামান অস্কার। এটাই তাঁর মাস্টারস্ট্রোক। আর তাতেই ম্যাচে ফেরে ইস্ট বেঙ্গল। নির্বাসনের কারণে এক ম্যাচ বাইরে ছিল ব্রাজিলিয়ান মিডিও। তবে এদিন মাঠে নেমেই আরও একবার নিজের জাত চেনাল। মিগুয়েল ছন্দে থাকলে এই ইস্ট বেঙ্গলকে রোখা অসম্ভব। একইসঙ্গে নন্দ কুমারকে দেখে বেশ ভালো লাগছে। গতবার তো কার্যত হারিয়ে গিয়েছিল। এবার অবশ্য নিজেকে নতুন করে মেলে ধরেছে এই দক্ষিণের ফুটবলারটি। তবে সাউলকে তুলে অহেতুক দলকে চাপে ফেললেন অস্কার। এই পর্বে উইং থেকে বারবার চাপ বাড়ায় মুম্বই। এমনকী, খুব সহজেই মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা। ছাংতের গোল অফ-সাইডের কারণে বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভাগ্য সহায় থাকায় একটি বল পোস্টে লাগে। তাই মূল্যবান ৩ পয়েন্ট নিয়ে শহরে ফিরছে ইস্ট বেঙ্গল। ইস্ট বেঙ্গল: গিল, কেভিন, জিকসন, আনোয়ার, সাউল,রশিদ (মিগুয়েল), বিপিন, বিষ্ণু, জেরি (শৌভিক), এডমুন্ড (নন্দকুমার) ও সোয়বার্গ (ইউসেফ)।

