দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত ভারত-চীন সম্পর্ক। বৌদ্ধ ধর্মগুরুর উত্তরসূরি বাছাই নিয়ে নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে বেইজিং। চীনের দাবি, দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনও বাহ্যিক হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু চীনা সরকারেরই রয়েছে।
রোববার ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন বহু শতাব্দীর ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহাসিক প্রথা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি চীনা সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান ১৪তম দলাই লামাকেও একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
ইউ জিং আরও বলেন, “তথাকথিত সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ফলে তিব্বতি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করারও তাদের কোনও বৈধতা নেই। তাই দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার অধিকারও তাদের নেই।”
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ মে ধর্মশালায় সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান পেনপা সেরিং দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নিতে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে বর্তমান দলাই লামার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগেই চীনা কর্মকর্তার এমন মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভারত তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আমরা আশা করি। তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে কোনও কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেবে না এবং দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও হস্তক্ষেপ করবে না।”
১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বর্তমান দলাই লামা তিব্বত ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই বেইজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে দেখে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলাই লামাকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও মৃত্যুর আগে একবার তিব্বতে ফেরার ইচ্ছার কথাও বহুবার জানিয়েছেন তিনি।
Keep Reading
Add A Comment

