দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের দায়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে চূড়ান্ত বিজয় অ র্জন করেছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ‘ইকসিড’ (ICSID) এক ঐতিহাসিক রায়ে নাইকোকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতি সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পায় নাইকো। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং ২৪ জুন পরপর দুইবার সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট মূল্যবান গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের জনপদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পেট্রোবাংলা এই ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করলে নাইকো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায় ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নাইকোর অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতার কারণেই এই মহাবিপর্যয় ঘটেছিল। রায়ে পুড়ে যাওয়া গ্যাসের দাম বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য আরও ২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে বাপেক্স বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত আদেশ এলো।
আগামীর সম্ভাবনা পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, “আমরা এই চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এরই মধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাতক পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে বর্তমানে ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিশাল মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে।

