ঢাকা সহ সারাদেশে সীমিত সংখ্যক নদী ও খাল রক্ষায় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ার ফলে দেশের প্রায় তিন শতাধিক নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
আদালতের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা নদীসহ কিছু নদী ও খালের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও এখনো তুরাগ, বালু, কর্ণফুলী, গোমতীসহ অধিকাংশ নদী ও খাল দখলের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় স্রোতস্বিনী নদীগুলোতে ছোট-বড় বহু চর জেগে উঠেছে এবং নাব্যতা হারানোর সাথে সাথে বেড়েছে ভয়াবহ দূষণ। যেসব স্থানে নদীর স্রোত ছিল, আজ সেখানে জমি চাষাবাদ পর্যন্ত শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট নদী-খাল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে এর অর্ধেকই বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের ছোট-বড় ২৩০টি নদীর মধ্যে প্রায় ১৭৫টিই মৃতপ্রায়। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে জীববৈচিত্র্যেও—বিলুপ্ত হয়েছে বহু প্রজাতির প্রাণী ও মাছ। রাজধানী ও আশপাশে রয়েছে ছোট-বড় মোট ১৮টি নদী এবং ঢাকার অভ্যন্তরে রয়েছে ৪৩টি খাল, যার অধিকাংশই আজ নিশ্চিহ্ন। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় ৫৭টি নদী।
এ প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ এই প্রতিনিধিকে বলেন,“দেশের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নদী, খাল, পুকুর ও জলাধার ভরাট নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে ভরাট ও দখল অব্যাহত আছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই আইন উপেক্ষা করে প্রকল্প গ্রহণ করে। যদিও আদালত নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিকারমূলক আদেশ দিচ্ছেন; তবে সেগুলোর বাস্তবায়নে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের রায় অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।”
নদী রক্ষায় বেশ কিছু বেসরকারি সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে— এইচআরপিবি, বেলা, পবা সহ আরও কয়েকটি সংগঠন। তারা দখল, দূষণ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত একাধিক নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাশালী মহলের প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেসব আদেশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ণ সম্ভব হচ্ছে না।

