সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশে দুর্নীতি রোধে ৬টি পরিকল্পনা গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।শুক্রবার নির্বাচনী ইশতেহারে এই কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায়।
২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উল্লেখ্য যে, কেবল ২০০০১ সনেই নয়, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশও তৎকালীন আওয়ামীলীগের দুর্নীতি এবং লুটপাটের কারণে সারাবিশ্বে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
২০০১ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগম খালেদা জিয়া’র সরকার তৎকালীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’কে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রথম বছর থেকেই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করে। ফলে ২০০২ সালে প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪ থেকে উন্নীত হয়ে ১.২ হয়। ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমতে থাকে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের স্কোর আবারও কমতে থাকে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমনে যেসব পদক্ষেপ নেবে বিএনপি:
দুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কার
বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দুদক সংস্কার সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত সংস্কারগুলো যথেষ্ঠ নয় বলে বিএনপি মনে করে।
উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিট নিশ্চিত করা
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্ব ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত দরপত্র, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট এবং শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন নিশ্চিত করা হবে।
‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন: ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়রানি ও জটিলতা নিরসনকল্পে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করা হবে। একই সাথে, ঘুষ কিংবা অবৈধ লেনদেন নিরসনকল্পে সরাসরি শারীরিক যোগাযোগের পরিমাণ হ্রাস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ন্যায়পাল নিয়োগ সংবিধানের অধীনে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একজন ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বিএনপি আমলে সৃষ্ট ‘কর ন্যায়পাল’ পদটি বেশ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়েছিল বিধায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন
সরকারি ব্যয় ও প্রকল্প ব্যয়ের কেবল আর্থিক অডিটই নয়, ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সুনির্দিষ্টভাবে প্রকল্পের ইস্পিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিষ্ট আমলের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনা
বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, কুটনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্রটি অসম্পূর্ণ বিধায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ জরুরী।
অন্যায়কারীর পরিচয় শুধুই অন্যায়কারী
অন্যায় যে করে সে কোনো দলের হতে পারে না। অন্যায় যে করে সে শুধুই অন্যায়কারী। আমাদের সকলকে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে অন্যায়কারীদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, অন্যায়কে সহযোগীতাকারীও অন্যায়কারী।

