জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁকে শেষ বিদায় জানালেন দেশের সর্বস্তরের জনতা।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার পরপরই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জানাজা পড়ান শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে, খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩ টার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে আততায়ীর গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় মারা যান হাদি।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার কফিন দেশে আনা হয়। সেখান থেকে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়।
এদিকে হাদির মৃতুতে আজ শনিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।

