বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার , কামাল বলেছেন, এই নির্বাচনটি ছিল একটি বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন। বিগত তিন-চারটি নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার প্রত্যেকেই স্ব-ইচ্ছায় ভোট দিয়েছেন এবং তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে। সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সকলেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, যার ফলে আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন পেয়েছি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে থেকে নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জয়-পরাজয় থাকবেই। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী যারা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের সাথেই কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, কিন্তু কোনও প্রতিহিংসা ছিল না। নির্বাচন শেষ হয়েছে, এখন আমরা ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে নিজ এলাকায় কাজ করব। মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন—বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকার গারো, হাজং, হাওর ও সমতলের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের সেই প্রত্যাশা পূরণে আমি সচেষ্ট থাকব। এজন্য আমি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৫ আগস্টের বিজয় না হলে আজ আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারতাম না। সেই বীর শহীদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তাদের কথা স্মরণে রেখেই একটি নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি।
এর আগে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারিভাবে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ধানের শীষ) তার নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে ৭০ হাজার ৯০৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানী (রিকশা) প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৩৮ ভোট।

