আমেরিকায় অভিবাসন দপ্তরের (আইসিই) কর্তাদের হাত থেকে রেহাই পেল না দু’বছরের শিশুকন্যা! বাবার সঙ্গে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দু’জনকেই আটক করা হয়। দিনকয়েক আগে ঘটনাটি ঘটে মিনিয়াপোলিসে। আটক করার পর বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পরে অবশ্য এক ফেডেরাল বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেয় আইসিই।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর একটা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন এলভিস জোয়েল টিপান-ইচেভেরিয়া। মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেসন শাভেজ জানান, দোকান থেকে বাড়ি পর্যন্ত এলভিসদের পিছু নেয় একটি গাড়ি। বাড়ি পৌঁছাতেই এলভিসের গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁদের অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, কোনো বৈধ ওয়ারেন্ট ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) অবশ্য জানিয়েছে, আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন ইকুয়েডরের বাসিন্দা এলভিস। দেশের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘একাধিকবার বলা সত্ত্বেও গাড়ির কাচ নামাচ্ছিলেন না এলভিস। শিশুর মা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মেয়েকে নিতে চাননি।’ এলভিসের পরিবারের পালটা দাবি, শিশুটিকে মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার সময় বাধা দেয় ফেডেরাল এজেন্টরা।
এদিকে, এলভিসকে আটক করতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে ফেডেরাল এজেন্টদের ঘিরে ফেলে ১২০ জন। এজেন্টদের পাশাপাশি ওই শিশুকন্যাকে লক্ষ্য করে পাথর ও আবর্জনার ক্যান ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এলভিস ও তাঁর মেয়েকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক করার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আদালতের দ্বারস্থ হয় এলভিসের পরিবার। আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টার মধ্যে মেয়েটিকে ছেড়ে দিতে হবে। বিচারক বলেন, ‘দু’বছরের শিশুটির যে অপরাধমূলক ইতিহাস নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’ অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এলভিস ও তাঁর মেয়েকে বিমানে করে টেক্সাস পাঠানো হয়। পরে অবশ্য মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেয় অভিবাসন কর্তারা। এলভিসদের আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান বলেন, ‘শুক্রবার দু’জনকেই মিনেসোটায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন অভিবাসন আধিকারিকরা। দু’বছরের শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এলভিস এখনও ছাড়া পাননি।’ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এলভিসের আবেদন এখনও বিচারাধীন। তবে ওই পরিবারকে দেশছাড়া করার কোনো নির্দেশ দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
কয়েকদিন আগেই মিনেসোটায় পাঁচ বছরের একটি শিশুকে আটক করা হয়। তাকেও বাবার সঙ্গে টেক্সাসের ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যান ফেডেরাল এজেন্টরা। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই ছবি দেখা গেল ট্রাম্পের দেশে।

