ইডেন গার্ডেনসে স্পিন ট্র্যাক তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ফাঁদ তৈরি করেছিল ভারত। সময়ের অঘোষিত মোড়ল দেশটি নিজেরাই সেই ফাঁদেই ধরাশায়ী হলো। প্রায় ৬ বছর পর নন্দকাননে সাদা পোশাক আর লাল বলের আভিজাত্যের ক্রিকেট। কলকাতার দর্শকদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। সেটিকে শ্মশানে পরিণত করল টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন প্রোটিয়ারা। ১৫৯ ও ১৫৩ রানে অলআউট হয়েও টেম্বা বাভুমার দল তুলে নিল ৩০ রানের অবিশ্বাস্য এক জয়। ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের কাছে রীতিমতো নাজেহাল শুভমান গিল, জশস্বী জয়সওয়াল, ঋষভ পন্থরা। ১২৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে রবিবার তৃতীয় দিনে স্বাগতিকরা গুটিয়ে গেছে মাত্র ৯৩ রানে। প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১৮৯। ইডেন গার্ডেনসে সবচয়ে কম রান ডিফেন্ড করে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়া দ.আফ্রিকা ভারতের মাটিতে টেস্টে সাফল্যের দেখা পেল ১৬ বছর পর। আর তাদের স্মরণীয় এই জয়ের নায়ক অফস্পিনার সিমন হারমার- দুই ইনিংসে ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৩০ ও ২১ রান দিয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের মাটিতে শেষ টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, নাগপুরে। ভারতের মাঠে এর চেয়ে কম রান তাড়ায় হেরে যাওয়ার ঘটনা আছে আর মাত্র একটি। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ে ১০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের বিপক্ষে ৯৩ রানেই অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের ইতিহাসেও এর চেয়ে কম তাড়া করে একবারই হেরেছে ভারত। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বার্বাডোজ টেস্টে ১২০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি তারা। ২ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। শেষ ভরসা অক্ষর প্যাটেল বেছে নিলেন পাল্টা আক্রমণের পথ। কেশভ মহারাজকে চার বলের মধ্যে মারলেন একটি চার ও দুটি ছক্কা। ঘুরে দাঁড়াতে একদমই সময় নিলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ স্পিনার। ওভারের শেষ দুই বলে অক্ষর ও মোহাম্মাদ সিরাজকে ফিরিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন তিনি। কলকাতা টেস্টে প্রোটিয়াদের জন্য স্পিন ফাঁদ পেতেছিল ভারত। চার স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেছিল তারা। স্বাগতিকদের সেই ফাঁদে ফেলে তিন দিনেই অসাধারণ জয় তুলে নিল সফরকারীরা। অথচ মাত্র ১২৪ রানের লক্ষ্যে জয়ের সুবাস নিয়ে নতুন দিন শুরু করেছিল ভারত। প্রথম ইনিংসে ৩ বল খেলে ঘাড়ে চোট পাওয়া শুভমান গিল হাসপাতালে ভর্তি। ম্যাচের মাঝে অধিনায়কের ছিটকে যাওয়া ভারতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। এর আগে ভয়ঙ্কর উইকেটে ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

